কাদির মুহাম্মাদের অনূদিত কবিতা

৬ এপ্রিল ২০২৬

*
পিরিতের পথে
একটা ঘর আছে
যেইখানে পিরিত বাস করেনাই কখনো

একটা কেল্লা আছে—
ঢুইকা গেলে কেউ
বের হইতে পারে না আর

পিরিতের পথের ভিতর
আরও একটা পথ আছে
যেইটা পিরিতের দিকে যায়নাই মূলত

একটা ব্রিজ আছে
যেইটা কোনো রুটরে বা সাগররে
পাড়ি দেওয়ার কাজে লাগে না

পিরিতের পথে
একটা বরইগাছ আছে
ছায়া নাই তার
রোদ থেইকা রেহাই মিলে না

এবং
একটা দেয়াল আছে
রোদ পড়ে না তাতে

পিরিতের পথে
একটা সমুদ্র আছে
যেইখানে রাইত নামে না কখনো

আছে, একটা জঙ্গল আছে
যেইখানের রাইত আর
সকাল হয় না

পিরিতের পথে—
উদাসী হাওয়া আর নিরস মৌনতার বিপরীতে
একটা কুঠুরি আছে
যেইটাতে বইসা আমরা—

কাউরে ইয়াদ করতে থাকি
কাউরে ভুইলা যাইতে থাকি

মূল: জিসান সাহিল


*
তোমার ভালোবাসা আমাকে দুঃখ করতে শিখিয়েছে।

আমি তো বহু যুগ ধরেই খুঁজছিলাম এমন এক নারী—
যে আমায় দিল ভরে দুঃখ দেবে।
এমন এক নারী—
যার হাতে কপাল ঠেকিয়ে নীড়হারা পাখির মতন কাঁদতে পারবো আমি।

যে আমায়
ভাঙা কাঁচের টুকরার মতন ছিঁড়ে ফেলবে, আবার
জোড়া দেবে যে!

~
মূল: নিজার কাব্বানি


ভাষা

*
যখন প্রেমে পড়ে এক পুরুষ,
কীভাবে সে মুখে নিতে পারে পৃথিবীর আদিম ভাষা?

কীভাবে এক প্রেমসুন্দর নারী
শুতে পারে—এক বিধিনির্মাতা ও শব্দপুলিশের সাথে?

আমি তো কিছুই বলিনি তাকে—
যাকে আমি ভালোবেসেছিলাম,

ভালোবাসার সমুহ শব্দ ও সম্বোধন স্যুটকেসে করে
পৃথিবীর সমুহ ভাষার হাত থেকে
আমি কেবল পালিয়ে বেড়িয়েছিলাম।

~
মূল: নিজার কাব্বানি


শুনেছি—//জেহরা নিগাহ

*
শুনেছি—নিঝঝুম জঙ্গলের ভিতরেও শক্ত নিয়মকানুন থাকে
শুনেছি—সিংহের পেট ভরে গেলে হামলা করে না সে
লতাগুল্মের ঘন ছায়ার ভেতর বসে থাকে ধ্যানে

ঝোড়ো হাওয়ার ঝাঁকুনিতে যখন ডালগুলো নড়তে থাকে
ময়না নিজের বাচ্চাগুলোকে ঠেলে
কাকের ডিমগুলোকেও আগলে রাখে বুকে।

শুনেছি—
নীড় ছেড়ে একটি বাচ্চাও যদি পড়ে যায় তবে
জেগে উঠে পুরো অরণ্য

শুনেছি—
নদীর ছলাৎছলাৎ জলে
যখন কাঁপতে থাকে মৌমাছির নীড়ের সোনা সোনা রঙ
নদীর রূপালি মাছেরাও নিজের প্রতিবেশী মেনে নেয় তাকে

শক্ত তুফানের তোপে যখন ভেঙে যায় চলার সেতু
এক টুকরো কাটের পরে
সাপ-চিতা-বকরি আর কাঠবিড়ালি বসে থাকে; জড়াজড়ি করে

শুনেছি—নিঝঝুম জঙ্গলের ভিতরেও শক্ত নিয়মকানুন থাকে

আয় রহমানু রহিম
—করুণার আধার—দয়ার সাগর খোদা
জ্ঞান আর ইনসাফের সাগর,
আমার এই শহরে এবার
জঙ্গলের মতোই কোনোএক নিয়মের সমতা ঘটাও।

—অনুদিত


*
তোমার পায়ের নিচে
কুমুদ ফোটে যেই গলিতে
সেই গলি আমি
ছেড়ে এসেছি

হাসলে তুমি—
দুই গাল ভরে
বয়ে যেত ঘুর্ণির ঢেউ

সরু কোমরের ভাঁজে
ধীরে, বাঁক নিতো নদী

আনোখা হাসির কোলে
লাল হতো
ডালিমের দানা

পদচিহ্ন পেলে
উড়ে যেত রোদ

শুনেছি—
সেই চৌকাঠ ভরে এখন
শুয়ে পড়ে সন্ধ্যারাও

তবে
আমার হৃদয়
কালো, এক, টুকরো পাথর হয়ে গেছে

নিরাই—অন্ধকার

দাঁড় কাক ওড়তে থাকা
দমফাঁসলাগা এক,
মৃত্যুপুরী হয়ে গেছে

তবু
তোমার সাথের একটুখানি সময়
নিলাম হচ্ছে না
মুক্তহাতে—দুহাত ভরে
জ্বালিয়ে দিচ্ছি, তবু
পুড়ে যাচ্ছে না!

মূল: গুলজার

পাঠকের ভালোবাসাই রাবতার শক্তি। এক কাপ চায়ের দামে আমাদের পাশে থাকতে পারেন।

বিস্তারিত
লেখক

কাদির মুহাম্মাদ

পাঠ আর লেখালেখির মোহময় এক জীবন কাদির মুহাম্মাদের (মুহাম্মাদ আব্দুল কাদির)। দীর্ঘদিনের যাপিত পাঠকে সঙ্গী করে তিনি নিজেকে মেলে ধরেছেন কবিতা ও অনুবাদের নিভৃত জগতে। তাঁর কবিতার ছত্রে ছত্রে ফুটে ওঠে নিজের সুপ্ত ভাবনাকে জাগিয়ে তোলার এক ব্যাকুল প্রয়াস। উর্দু সাহিত্যের প্রতি এক বিশেষ টান থেকে তিনি নিয়মিত অনুবাদ করে চলেছেন ধ্রুপদী উর্দু গজল। মৌলিক সৃজনশীলতা আর অনুবাদের এই মেলবন্ধনে কাদির মুহাম্মাদ আধুনিক বাংলা সাহিত্যে নিজের এক স্বতন্ত্র পরিচয় গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।

সব লেখা দেখুন

লেখাটি শেয়ার করুন

০টি মন্তব্য

আপনার মন্তব্য লিখুন


Review Your Cart (0)

Your cart is currently empty.