আযহার খাঁন তালহার কয়েকটি কবিতা

*
আব্বা
ছোটবেলা যখন কোথাও বেড়াতে যেতাম
আব্বা পকেটে গুজে দিতেন একশো’ টাকার নোট
সাথে একটা চিরকুটে নাম,ঠিকানা, নাম্বার লিখে দিতেন
আব্বার ভয় ছিল, হয়তো আমি হারিয়ে যাবো কিম্বা তুলে নেবে
ছেলেধরার দল
এই ভয় নিয়ে একদিন আব্বাও হারিয়ে গেলেন
কিন্তু আমি বেকুব;
আব্বাকে বড় ভেবে হারিয়ে যাওয়ার আগে
পকেটে গুজে দেইনি বাড়ির ঠিকানা।
*
আম্মাকে মনে পড়লে—
আম্মাকে মনে পড়লে
সময় থাইমা যায়,
যেভাবে থাইমা যায়
আচমকা টায়ার ব্লাস্ট হওয়া গাড়ি।
মনে পড়ে বাড়ির জারুল গাছ—
কী বিষণ্ণ দুপুর;
নীল সন্ধ্যা!
রাত্রিগুলো যেন ক্রমশ কবরের মতো
সঙ্কীর্ণ হয়ে আসে,
আমি তখন হু হু করে
ঢুকে যাই আম্মার বুকের ভেতর।
*
ভাইয়া
সবাই যখন ছাতা হয়েছিল মাথার ‘পরে
বিমর্ষ শ্রাবণে—ঈশ্বরের লোভে—
ভাইয়া ধরেছিলেন হাত
অনির্বাণ সত্য-সঙ্কটে
এক চিমটি বসন্তের সন্ধানে!
*
বন্ধুবরেষু
চলো, চা খেতে খেতে নীরবতা ভাঙার মতো ভেঙে ফেলি আমাদের অভিমান
হাতে হাত রেখে মাটির ঘড়ার মতো গড়ে ফেলি বিশ্বাসের বোয়াম। পিন্দনের কাপড়ের মতো পরস্পরে গায়ে দেই প্রীতির পোষাক
এইসব হাবিজাবি দুঃখ, বেদনা অযাচিত বেফাঁস কথাবার্তা–গোপনে এঁটে থাকা কলুষতা মুছে দেই পুরনো প্রণয়ের ডাস্টারে-
আবার বসি বৈকালিক আড্ডায়। কবিতার পঙক্তির মতো খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করি আমাদের মান-অভিমান
তারপর মাগরেবের আজান হলে
মাদরাসায় ফেরার তাড়া নিয়ে
একটি সেলফি, খুচরো স্মৃতির সঞ্চয়, এক বোতল স্পিড কিম্বা এককাপ জয়নালের চায়ের ভেতর অপহৃত হই প্রলম্বিত স্মৃতির কারাগারে!
*
যদি
যদি শূন্য হতে হতে আরও শূন্য হয়ে
নিজেকে বিয়োগ করে ফেলি তাবৎ সংখ্যা থেকে
নিশীথে একাকিনী নির্ঝরের পাশে
যেতে যেতে হারিয়ে ফেলি হাতের তারা
মুঠো মুঠো রোদগুলো ভ্যাপসা হয়ে যায়
অর্জুনের তলে বসে তোমার পথে চেয়ে চেয়ে
এমনি সন্ধ্যাতারায় হারিয়ে ফেলি যত আয়ুকণা
আর খুচরো ভালোবাসা বলতে যা ছিল সবই
তবে কি রাখবে বলো
কিঙ্কিণী হাত তোমার
এই মুক্ত হাতে মোর
প্রিয় অরুণিমা?


০টি মন্তব্য