যখন পথ-বাছা’য়ের কাল

জীবনের ভেতর নানামুখী পথ ও নদী, জলরাশি, মেঘ, ডাহুক, হুতোমপেঁচার সশরীরী আহবান। মানুষের জীবন আসলে বহুল ও বিস্তৃত। মানুষ এই জীবন নামক মহান রাস্তার সম্মুখে দাঁড়িয়ে কনফিউজড হয়ে যায়, নানামাত্রিক বিভ্রম ক্লান্ত করে তোলে, তার জন্যে আসলে কোন রাস্তাটি? তার হাঁটার পথটি কোনটি? এইখানে এসে, এই জীবনজিজ্ঞাসার সম্মুখে দাঁড়িয়ে কেউ পথবিভ্রান্ত হয়ে ভিন্নপথ ধরে, জীবন খুঁইয়ে দেয় একটু সামান্য কিছুর জন্যে। কেউ ঝরে পড়ে, নুইয়ে যায়, পরাজয়কে ভেবে নেয় নিয়তি। পরাজয় আসলে আমার মনে হয়, মানুষ যখন পর্যন্ত না চায়, আসতে বাধ্য নয়।
আমি যা ভাবছি, আমি জানি তা অনেক কিছুই ঠুনকো ও সাময়িক, এমনকি গলদও। আমার খানিক যদি বলি, এই জীবনে, প্রচুর এমন এমন ঘটনা ঘটেছে, এমনকি এখনও ঘটছে, আমি নিজের চিন্তাকে অতিক্রম করেছি। সবসময়ই নিজেকে নিজের বোকা মনে হয়েছে, গতকালের ‘আমি’কে আমার করুণা করতে হয়েছে। প্রত্যেক গতকাল আমার কাছে মনে হয়ে আসছে ভুল, গতকালের আমিটি অবান্তর ও অবোধ শিশু। আমি তাই আমার ফিলোসফিতে একটি বহুল অনূদিত বই, যার বহু বহু পাঠক, নিজের মাঝে যে বেস্টসেলার। এইটাকে আমি পজিটিভলি নিই, আমি বইগত গেয়ানে সন্ধি করে বুঝেছি, প্রত্যেক আগের সিঁড়িটি হাওয়া ভাবতে না পারার আগ পর্যন্ত মানুষের সমৃদ্ধি আসতে পারে না।
এই কারণে, সমস্ত অতীতের আয়না আমি ভেঙে ফেলতে চাই। অতীতকে সেরিপ জলে ভেসে ওঠা ভালুকেরই আপন অবয়ব কল্পনা করতে চাই, অতীতের সঙ্গে বর্তমানকে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মতো সংযুক্ত করে ভবিষ্যত বিনির্মাণের প্রচেষ্টা, আমার মনে হয় একেবারেই অগ্রাহ্য করবার মতো নয়।
লেখক: গদ্যলেখক ও তরুণ ইন্টেলেকচুয়াল


০টি মন্তব্য