খালেদ আহমদের তিনটি কবিতা

*বাচ্চাবেলা
কেমন আছে পুকুর দিঘি নদী ছোট খাল
মেঘলা আকাশ বজ্রাঘাতে আমার দেওয়া ফাল?
কেমন আছে মায়ের শাসন বাবার গালাগাল
বাদলা দিনে আদরমাখা দিদির ভাজা চাল?
কেমন আছে হাজার খেলায় মুখর খেলার মাঠ
ভায়ের হাতের আঙুল ধরে ঘুরা বাজার হাট?
কেমন আছে শান্ত নিবিড় সবুজ শ্যামল গ্রাম
ঝড়ের রাতে কুড়িয়ে নেওয়া রাশিরাশি আম?
কেমন আছে চেচামেচি ইশকুলের ঐ রুম
মাটির পথে রেখা টেনে গুটি খেলার ধুম?
কেমন আছে ভায়ের সাথে বোনের অভিমান
রাগ ভাঙাতে ফুল আনা আর চাপাস্বরে গান?
কেমন আছে উদোম গায়ে সাঁতার কাটা ক্ষণ
সর্দি কাশি জ্বরে পেলে মিথ্যে করা পণ?
কেমন আছে মক্তবের ঐ মুখরিত স্বর
নূরের হাসি মুখে নিয়ে ফিরে আসা ঘর?
কেমন আছে মায়ের সাথে ঘুমিয়ে কাটা রাত
স্বপ্ন দেখে জাগলে মাথায় মায়ের বুলা হাত?
কেমন আছে সন্ধেবেলা পড়ার পরিবেশ
বই খাতা সব জাগায় রেখে যাওয়া ঘুমের দেশ?
কেমন আছে কোথায় আছে বাচ্চাবেলার দিন?
স্মৃতির ভিড়ে বাচ্চাবেলা আজও অমলিন।।
*আঁধার
আয়ুরেখা ধরে হেঁটে যেতে যেতে ক্লান্ত হই,
অভিযোগ কার প্রতি করি!
আমি একান্ত পরগাছার জীবন্ত আকৃতি
প্রাণ আছে ভেতরে
কিন্তু প্রাণসঞ্চার হওয়ার মত কিছু নেই।
চুপিচুপি নির্বিঘ্নে ঢেউয়ের ফুসলে উঠা দেখে অবাক হই,
কত ঢেউ আসে কত চলে যায় অজানায়
কেউ হিসেব রাখে না,
আমিও কেমন যেন একটা ঢেউয়ের আদল।
রাত্রির হাত নেড়ে আমি আঁধারে আহুত হই,
সঞ্জীবনী সুর কখনো আমার দেহ ছুঁয়ে যায়,
আমি তার সাথে তাল মিলিয়ে কিছুক্ষণ বেঁচে থাকার আনন্দ লুটে নেই,
কিন্তু পরক্ষণেই বুকে জেগে ওঠে অচিন নাদ,
আমি স্থির থাকতে পারি না
আমি নিজের আঘাতে যেন নিজেই পোড়ে ছাই।
*আমি আমার মতন
কে যায় কোথায় কোন ভরসায়
দূর সুদূরে হারায় মনের চোখ?
এসব ভাবার সময় না পাই
আমি দারুণ খামখেয়ালি লোক।
ভাবছো আমায় খুব সহজে
চুক্তি কথায় সত্যি হেরে যাই?
একদমই না আমি বরং
যুদ্ধ করে নিজেকে সাজাই।
সুখ অসুখের দ্বন্দ্বে মেতে
দুঃখ দিয়ে রাঙাই মনের তীর
রাতবিরেতে হঠাৎ কভু
ফুঁপিয়ে কাঁদায় হাজার স্মৃতির ভীড়।
ভালো থাকার নিঠুর খেলায়
নিয়মিত জিততে গিয়েও হারি
তবু আমি খুব সাধারণ
অভিনয়ে বাঁচতে আমি পারি।
ভালো আছি থাকব ভালো
নাইবা পেলাম সুখের দেখা শেষে
আমি আমার মতন করে
জীবনটা পার করব অবশেষে।


০টি মন্তব্য