ইতিহাসের আলোছায়ায় ইতিহাসের এক পাঠ

২৪ আগস্ট ২০২৬

হামমাদ রাগিব’র ‘ইতিহাসের আলোছায়া’ বইটি দীর্ঘ এক সপ্তাহ ধরে ক্লাসের ফাঁকে ফাঁকে সময় বের করে পড়ার সুযোগ হয়েছে। ব্যস্ততার মধ্যেও বইটির প্রতি এক ধরনের টান অনুভব করেছি; প্রতিটি অবসর যেন বইটির কয়েকটি পৃষ্ঠা পড়ার জন্যই অপেক্ষা করত।

আমার একটি অদ্ভুত অভ্যাস আছে—হাতের নাগালে কোনো বই পেলে সেটি হাতে তুলে অন্তত বইটি সম্পর্কে কিছুটা জেনে নেওয়া। ‘ইতিহাসের আলোছায়া’ও এর ব্যতিক্রম হয়নি। বইটি হাতে আসার পর প্রথমেই মনোযোগ দিয়ে পড়লাম এর বই-পরিচিতি। পরিচিতির প্রতিটি বাক্য যেন কৌতূহলকে আরও উসকে দিল; মনে হলো, এই বইটি শুধু হাতে নিয়ে দেখার নয়, বরং মন দিয়ে পড়ার মতো। সেখান থেকেই পুরো বইটি পড়ার আগ্রহ তৈরি হয়।

পাঠের সময় বারবার মনে হয়েছে, লেখক ইতিহাসকে নিছক ঘটনা ও সাল-তারিখের সমষ্টি হিসেবে উপস্থাপন করেননি; বরং ইতিহাসের আলো-আঁধারি, উত্থান-পতন এবং মানুষের জীবন-সংগ্রামের সঙ্গে মিলিয়ে তা পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন। বিশেষ করে আব্বাসীয় ও উসমানীয় খেলাফতের স্মরণীয় নানা অধ্যায়, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং তথ্যবহুল আলোচনা বইটিকে সমৃদ্ধ করেছে। একই সঙ্গে ইতিহাসের আড়ালে চাপা পড়ে থাকা কিছু সত্যও লেখক অনুসন্ধানী দৃষ্টিতে পাঠকের সামনে তুলে ধরেছেন।

ইতিহাসপিপাসু কোনো পাঠক যদি মুসলিম মনীষীদের জীবন, তাঁদের সংগ্রাম এবং মুসলিম বিশ্বের সাংস্কৃতিক ইতিহাস সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে জানতে চান, তাহলে ‘ইতিহাসের আলোছায়া’ তাঁর জন্য একটি উপযোগী পাঠ হতে পারে। বইটি একদিকে যেমন ইসলামী ইতিহাসের সঙ্গে পাঠককে পরিচিত করবে, অন্যদিকে তেমনি ইতিহাসের প্রতি তাঁর মনে নতুন কৌতূহল ও অনুসন্ধিৎসা তৈরি করবে—এটাই বইটির অন্যতম সার্থকতা বলে মনে হয়েছে।

আমার বিশ্বাস, ‘ইতিহাসের আলোছায়া’ পাঠ শেষ হওয়ার পর ইতিহাসের প্রতি যে আগ্রহ নিয়ে বইটি শুরু করেছিলাম, তার চেয়েও বেশি আগ্রহ নিয়েই হয়তো পরবর্তী কোনো ইতিহাসের বই হাতে তুলে নেব। আর এটাই সম্ভবত একটি ভালো ইতিহাসগ্রন্থের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি—পাঠ শেষ করে ইতিহাসের প্রতি আগ্রহ শেষ না হয়ে বরং আরও বেড়ে যাওয়া।

পাঠকের ভালোবাসাই রাবতার শক্তি। এক কাপ চায়ের দামে আমাদের পাশে থাকতে পারেন।

বিস্তারিত
লেখক

ইমদাদ রাফি

সব লেখা দেখুন

লেখাটি শেয়ার করুন

০টি মন্তব্য

আপনার মন্তব্য লিখুন


Review Your Cart (0)

Your cart is currently empty.