বিদায় হজ্জের খুতবা: একটি শাশ্বত সংবিধান

বিদায় হজ্জ ইসলামের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্ববহ, কারণ নবুওয়ত লাভের পর এটি ছিল রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর জীবনের একমাত্র হজ্জ এবং এটি সংঘটিত হয়েছিল তাঁর ওফাতের মাত্র ৮১ দিন আগে। রাসূলুল্লাহ ﷺ এই হজ্জে উম্মতের কাছ থেকে বিদায় নিয়েছিলেন বলে একে “বিদায় হজ্জ” বলা হয়।

লক্ষাধিক সাহাবায়ে কেরামের বিশাল উপস্থিতিতে রাসূলুল্লাহ ﷺ জীবন সায়াহ্নের ধারপ্রান্তে এক দায়িত্বশীল দরদী অভিভাবকের মতো অসংখ্য উপদেশ ও নসিহত প্রদান করেন। সেই নসিহতের পরতে পরতে ফুটে উঠেছে ইসলামের অপরূপ সৌন্দর্য ও দীনের পূর্ণতা, যা কেয়ামত পর্যন্ত আগত প্রতিটি মানুষের জন্য হেদায়াতের মশাল। এসব উপদেশের প্রতিটি কথাই ছিল মনি-মুক্তার মতো মূল্যবান এবং প্রতিটি বাণীই ছিল মানবতার মুক্তির বার্তাবাহী, যার মাঝে ইসলামের গভীরতম নির্দেশনা ও সারবত্তা নিহিত রয়েছে।

মুসলিম উম্মাহ খুতবার বিষয়বস্তু গভীরভাবে চিন্তা করে জীবনে প্রতিফলিত করতে পারলে দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতার নিয়ামক হতো। রাসূল ﷺ এই খুতবায় সাম্য মর্যাদা সততা ও ইনসাফের বুনিয়াদ প্রোথিত করেছেন, চিরন্তন নীতিমালা উল্লেখ করেছেন যা কোনো যুগে বা স্থানে পরিবর্তন হবে না। এটি ছিল কল্যাণ, সহনশীলতা, ভালোবাসা এবং সৎকর্মের অপূর্ব সমন্বয়।

রাসূল ﷺ এই খুতবায় উম্মতের প্রতি তাঁর দয়া ও মমতা প্রকাশ করেছেন, তাঁর তিরোধানের পর উম্মতের বিভক্তির আশঙ্কা ব্যক্ত করেছেন। তিনি আল্লাহর তায়ালার পক্ষ থেকে প্রাপ্ত রিসালাত ও আমানত অক্ষরে অক্ষরে পৌঁছে দিয়েছেন— কোনো সংযোজন বা বিয়োজন ব্যতীত। সুতরাং এর প্রতিটি বাক্য শাশ্বত
সত্য, অমোঘ দাওয়াই— যা এক সত্য নবীর পবিত্র মুখ থেকে নিঃসৃত হয়েছে।

নিশ্চিতভাবে বলা চলে, বিদায় হজ্জের খুতবা ছিল অত্যন্ত ব্যাপক ও সর্বজনীন। এতে রাসুলুল্লাহ ﷺ নৈতিক মূল্যবোধ ও আদর্শিক নীতিমালা প্রতিস্থাপন করেছেন। বিদায় হজ্জের খুতবা যদিও সংক্ষিপ্ত কিন্তু নিগূঢ় অর্থবহ। রাজনীতি, অর্থনীতি, পারিবার, নীতি-নৈতিকতা, জনসম্পর্ক এবং সামাজিক ব্যবস্থার মৌলিক নীতিমালা খুতবায় বিবৃত হয়েছে । সুতরাং এটি দ্বীন-দুনিয়া ও আখিরাতের সম্যক সম্মিলন। এতে জান, মাল ও ইজ্জতের ব্যক্তিগত ও সমষ্টিগত নিরাপত্তার অধিকার বর্ণিত হয়েছে। তাছাড়া দাম্পত্য জীবনের অধিকার, সত্য ও সাম্য-সমতার নীতি প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায় ও সুবিচারের নীতিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

নিম্নে বুঝার সুবিধার্থে শিরোনামের অধীনে খুতবায় শ্রেষ্ঠাংশ তুলে ধরা হলো।

(১) ইলম অর্জনের ওপর জোরালো উৎসাহ প্রদান

আবু উমামা বাহিলি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: বিদায় হজ্জে রাসূলুল্লাহ ﷺ দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেন। সেদিন তিনি ফাদল ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-কে একটি ধূসর বর্ণের উটের পেছনে বসিয়ে রেখেছিলেন। রাসুলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করলেন,
«يا أَيُّها النَّاسُ خُذُوا مِنَ العِلْمِ قَبْلَ أَنْ يُقْبَضَ الْعِلْمُ، وَقَبْلَ أَنْ يُرْفَعَ الْعِلْمُ» فَقَالَ لَهُ [أعرابيٌّ]: «يا نَبِيَّ اللَّهِ، كَيْفَ يُرْفَعُ الْعِلْمُ مِنَّا وَبَيْنَ أَظْهُرِنَا الْمَصَاحِفُ وَقَدْ تَعَلَّمْنَا مَا فِيهَا، وَعَلَّمْنَا نِسَاءَنَا وَذَرَارِيَنا وَخَدَمَنا؟!». قالَ: فَرَفَعَ النَّبِيُّ ﷺ رَأْسَهُ وَقَدْ عَلَتْ وَجْهَهُ حُمْرَةٌ مِنَ الْغَضَبِ فَقال: «أَيْ! ثَكِلَتْكَ أُمُّكَ، وَهَذِهِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَى بَيْنَ أَظْهُرِهِمُ المَصَاحِفُ لَمْ يُصْبِحُوا يَتَعَلَّقُونَ بِحَرْفٍ مِمَّا جَاءَتْهُمْ بِهِ أَنبِيَاؤُهُمْ، أَلا وَإِنَّ مِنْ ذَهَابِ الْعِلْمِ أَنْ يَذْهَبَ حَمَلَتُهُ» ثَلَاثَ مِرَارٍ.
“হে লোকসকল! ইলম উঠিয়ে নেওয়ার আগে এবং ইলম বিদায় হওয়ার আগে তোমরা ইলম অর্জন করে নাও।”
এক [বেদুঈন সাহাবী] বলে উঠলেন: “হে আল্লাহর নবী! আমাদের কাছ থেকে ইলম কীভাবে উঠিয়ে নেওয়া হবে, আমাদের মাঝে তো মুসহাফসমূহ স্বঅবস্থায় বিদ্যমান আছে? আমরা তো এতে অন্তস্থিত বিষয়গুলো শিখেছি এবং আমাদের স্ত্রীদের, সন্তানদের ও খাদেমদেরকেও শিখিয়েছি?!” বর্ণনাকারী বলেন, নবী ﷺ মাথা উঠালেন এবং ক্রোধে তার চেহারা লাল হয়ে গেল। তারপর বললেন:
“আফসোস! তোমার মা তোমাকে হারাক! ইয়াহুদি ও খ্রিস্টানদের কাছেও তো মুসহাফ রয়েছে, অথচ তাদের নবীরা যা নিয়ে এসেছিলেন তার একটি অক্ষরও তারা আঁকড়ে ধরে নেই। জেনে রাখো, ইলম উঠে যাওয়ার একটি কারণ হলো ইলমের বাহকদের উঠে যাওয়া।” কথাটি তিনবার বললেন। [মুসনাদে আহমদ: ২২২৯০]

(২) মুসলমানদের রক্ত, সম্পদ ও ইজ্জত-আব্রুর হেফাজত

➤ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ কুরবানির দিন মানুষের উদ্দেশ্যে খুতবায় ইরশাদ করলেন:
«يا أَيُّهَا النَّاسُ أَيُّ يَوْمٍ هَذَا؟» قَالُوا: «يَوْمٌ حَرَامٌ» ، قَالَ: «فَأَيُّ بَلَدٍ هَذَا؟» قَالُوا: «بَلَدٌ حَرَامٌ» ، قَالَ: «فَأَيُّ شَهْرٍ هَذَا؟» قَالُوا: «شَهْرٌ حَرَامٌ»، قَالَ: «فَإِنَّ دِمَاءَكُمْ وَأَمْوَالَكُمْ وَأَعْرَاضَكُمْ عَلَيْكُمْ حَرَامٌ؛ كَحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هَذَا، في بَلَدِكُمْ هَذَا، في شَهْرِكُمْ هَذَا» فَأَعَادَهَا مِرَارًا ثُمَّ رَفَعَ رَأْسَهُ فَـقَالَ: «اللَّهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ؟ اللَّهُمَّ هَلْ بَلَّغْتُ؟». قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ رضي الله عنهما: «فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّهَا لَوَصِيَّتُهُ إِلَى أُمَّتِهِ»؛ «فَلْيُبْلِغِ الشَّاهِدُ الْغَائِبَ، لا تَرْجِعُوا بَعْدِي كُفَّارًا يَضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ بَعْضٍ»

“হে লোকসকল! আজ কোন দিন?”
তারা বলল: “মহিমান্বিত (হারাম) দিন।”
তিনি বললেন: “এটা কোন শহর?”
তারা বলল: “মহিমান্বিত (হারাম) শহর।”
তিনি বললেন: “এটা কোন মাস?”
তারা বলল: “মহিমান্বিত (হারাম) মাস।”

রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন: “তাহলে নিশ্চয়ই তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ ও তোমাদের ইজ্জত-আব্রু তোমাদের জন্য হারাম, যেমন হারাম তোমাদের এই দিন, এই শহর, এই মাস।“
তিনি কথাটি বারবার পুনরাবৃত্তি করলেন। তারপর মাথা উঠিয়ে বললেন: “হে আল্লাহ! আমি কি পৌঁছে দিয়েছি? হে আল্লাহ! আমি কি পৌঁছে দিয়েছি?”

ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: “যার হাতে আমার প্রাণ, সেই সত্তার কসম! এটাই তাঁর উম্মতের জন্য উপদেশ।”

তারপর রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন: “উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয়। আমার পরে তোমরা কাফির হয়ে যেও না যে, একে অপরের গর্দানে আঘাত করবে।” [বুখারি:১৭৩৯]

➤আবু বাকরা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী ﷺ বলেছেন:
” إِنَّ الزَّمَانَ قَدِ اسْتَدَارَ كَهَيْئَتِهِ يَوْمَ خَلَقَ اللَّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ ؛ السَّنَةُ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ، ثَلَاثَةٌ مُتَوَالِيَاتٌ ؛ ذُو الْقَعْدَةِ، وَذُو الْحِجَّةِ، وَالْمُحَرَّمُ، وَرَجَبٌ شَهْرُ مُضَرَ الَّذِي بَيْنَ جُمَادَى وَشَعْبَانَ “، ثُمَّ قَالَ : ” أَيُّ شَهْرٍ هَذَا ؟ ” قُلْنَا : اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قَالَ : فَسَكَتَ حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهُ سَيُسَمِّيهِ بِغَيْرِ اسْمِهِ. قَالَ : ” أَلَيْسَ ذَا الْحِجَّةِ ؟ ” قُلْنَا : بَلَى. قَالَ : ” فَأَيُّ بَلَدٍ هَذَا ؟ ” قُلْنَا : اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قَالَ : فَسَكَتَ حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهُ سَيُسَمِّيهِ بِغَيْرِ اسْمِهِ، قَالَ : ” أَلَيْسَ الْبَلْدَةَ ؟ ” قُلْنَا : بَلَى. قَالَ : ” فَأَيُّ يَوْمٍ هَذَا ؟ ” قُلْنَا : اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ. قَالَ : فَسَكَتَ حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهُ سَيُسَمِّيهِ بِغَيْرِ اسْمِهِ، قَالَ : ” أَلَيْسَ يَوْمَ النَّحْرِ ؟ ” قُلْنَا : بَلَى يَا رَسُولَ اللَّهِ. قَالَ : ” فَإِنَّ دِمَاءَكُمْ، وَأَمْوَالَكُمْ – قَالَ مُحَمَّدٌ : وَأَحْسِبُهُ قَالَ – وَأَعْرَاضَكُمْ حَرَامٌ عَلَيْكُمْ كَحُرْمَةِ يَوْمِكُمْ هَذَا فِي بَلَدِكُمْ هَذَا فِي شَهْرِكُمْ هَذَا، وَسَتَلْقَوْنَ رَبَّكُمْ فَيَسْأَلُكُمْ عَنْ أَعْمَالِكُمْ، فَلَا تَرْجِعُنَّ بَعْدِي كُفَّارًا، أَوْ ضُلَّالًا يَضْرِبُ بَعْضُكُمْ رِقَابَ بَعْضٍ، أَلَا لِيُبَلِّغِ الشَّاهِدُ الْغَائِبَ ؛ فَلَعَلَّ بَعْضَ مَنْ يُبَلَّغُهُ يَكُونُ أَوْعَى لَهُ مِنْ بَعْضِ مَنْ سَمِعَهُ “. ثُمَّ قَالَ : ” أَلَا هَلْ بَلَّغْتُ ؟

“নিশ্চয়ই সময় ঘুরে তার সেই অবস্থায় ফিরে এসেছে যেভাবে আল্লাহ আসমান ও জমিন সৃষ্টিকালে করেছিলেন। বছর হলো ১২ মাসের। এর মধ্যে চারটি মাস সম্মানিত:
তিনটি ধারাবাহিক: যুলকা‘দা, যুলহিজ্জা, মুহাররাম
এবং রজব-মুদারের মাস, যা জুমাদা ও শাবানের মাঝে।”

এরপর নবী ﷺ জিজ্ঞেস করলেন: “এটা কোন মাস?”*
আমরা বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।
তিনি চুপ থাকলেন। এমনকি আমরা ভাবলাম তিনি হয়তো এর অন্য নাম রাখবেন।
তারপর বললেন: “এটা কি যুলহিজ্জা নয়?”
আমরা বললাম: হ্যাঁ।

“এটা কোন শহর?”
আমরা বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।
তিনি চুপ থাকলেন, আমরা ভাবলাম তিনি হয়তো এর অন্য নাম রাখবেন।
তারপর বললেন: “এটা কি পবিত্র শহর মক্কা নয়?”
আমরা বললাম: হ্যাঁ।

“এটা কোন দিন?”
আমরা বললাম: আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন।
তিনি চুপ থাকলেন, আমরা ভাবলাম তিনি হয়তো এর অন্য নাম রাখবেন।
তারপর বললেন: “এটা কি কুরবানির দিন নয়?”
আমরা বললাম: হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল।

তখন তিনি বললেন:
“তোমাদের রক্ত, তোমাদের ধন-সম্পদ, এবং তোমাদের সম্মান তোমাদের জন্য হারাম, যেমন আজকের দিনটি হারাম, এই শহরে, এই মাসে।
শীঘ্রই তোমরা তোমাদের রবের সাথে সাক্ষাৎ করবে, আর তিনি তোমাদের আমল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবেন।
সাবধান! আমার পরে তোমরা কুফর বা পথভ্রষ্ট হয়ে ফিরে যেয়ো না, যেন তোমরা একে অপরের গলা কাটতে থাকো।

শোনো! উপস্থিত ব্যক্তি যেন অনুপস্থিত ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেয়। হতে পারে যার কাছে পৌঁছানো হলো, সে শ্রবণকারীর চেয়ে বেশি সংরক্ষণকারী হবে।”

এরপর তিনি বললেন: “শোনো, আমি কি পৌঁছে দিয়েছি?”

[বুখারী: ৫৫৫০; মুসলিম: ১৬৭৯]

(৩) নারীদের অধিকারের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ:

➤রাসুলুল্লাহ ﷺ এর হজ্জের বর্ননা সম্বলিত জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহুর দীর্ঘ হাদিসে আছে,
নবী ﷺ ইরশাদ করলেন:
«فاتَّقُوا اللَّهَ في النِّسَاءِ؛ فَإِنَّكُمْ أَخَذْتُمُوهُنَّ بِأَمَانِ اللَّهِ، وَاسْتَحْلَلْتُمْ فُرُوجَهُنَّ بِكَلِمَةِ اللَّهِ، وَلَكُمْ عَلَيْهِنَّ أَنْ لا يُوطِئْنَ فُرُشَكُمْ أَحَدًا تَكْرَهُونَهُ، فَإِنْ فَعَلْنَ ذَلِكَ فَاضْرِبُوهُنَّ ضَرْبًا غَيْـرَ مُبَرِّحٍ، وَلَهُنَّ عَلَيْكُمْ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالمَعْرُوفِ»

“তোমরা নারীদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। কেননা তোমরা তাদেরকে আল্লাহর আমানতে গ্রহণ করেছো এবং আল্লাহর কালেমার মাধ্যমে তাদের লজ্জাস্থান তোমাদের জন্য হালাল হয়েছে। তাদের ওপর তোমাদের হক হলো— তারা যেন তোমাদের বিছানায় এমন কাউকে বসতে না দেয় যাকে তোমরা অপছন্দ করো। যদি তারা এমন করে, তাহলে তোমরা তাদেরকে এমনভাবে লঘু প্রহার করবে। আর তোমাদের ওপর তাদের হক হলো— তোমরা তাদের খাবার ও পোশাক ন্যায়সঙ্গতভাবে প্রদান করবে।” [মুসলিম:১২১৮]

➤আমর ইবনুল আহওয়াস (রা.) বর্ণনা করেন যে, তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর সাথে বিদায় হজ্জে উপস্থিত ছিলেন। নবী ﷺ আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করলেন, উপদেশ ও নসিহত করলেন। তারপর বললেন:…
…ألا وَاسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ خَيْرًا، فَإِنَّمَا هُنَّ عَوَانٍ عِنْدَكُمْ، لَيْسَ تَمْلِكُونَ مِنْهُنَّ شَيْئًا غَيْرَ ذَلِكَ، إِلَّا أَنْ يَأْتِينَ بِفَاحِشَةٍ مُبَيِّنَةٍ، فَإِنْ فَعَلْنَ فَاهْجُرُوهُنَّ فِي الْمَضَاجِعِ، وَاضْرِبُوهُنَّ ضَرْبًا غَيْرَ مُبَرِّحٍ ، فَإِنْ أَطَعْنَكُمْ فَلَا تَبْغُوا عَلَيْهِنَّ سَبِيلًا. أَلَا وَإِنَّ لَكُمْ عَلَى نِسَائِكُمْ حَقًّا، وَلِنِسَائِكُمْ عَلَيْكُمْ حَقًّا ؛ فَأَمَّا حَقُّكُمْ عَلَى نِسَائِكُمْ فَلَا يُوطِئْنَ فُرُشَكُمْ مَنْ تَكْرَهُونَ، وَلَا يَأْذَنَّ فِي بُيُوتِكُمْ لِمَنْ تَكْرَهُونَ، أَلَا وَإِنَّ حَقَّهُنَّ عَلَيْكُمْ أَنْ تُحْسِنُوا إِلَيْهِنَّ فِي كِسْوَتِهِنَّ وَطَعَامِهِنَّ “.

সাবধান! তোমরা নারীদের ব্যাপারে কল্যাণের উপদেশ গ্রহণ করো। কেননা তারা তোমাদের কাছে অবরুদ্ধ। তোমরা তাদের ওপর (আধিপত্য বিস্তার, মারধর, ঘৃণা অবজ্ঞা ইত্যাদির) কিছুরই মালিক নও এর (কল্যাণকামিতার) বেশি, যদি না তারা স্পষ্ট অশ্লীলতা করে।

যদি তারা এমন করে, তবে শয্যায় তাদেরকে পরিত্যাগ করো এবং তাদেরকে এমনভাবে প্রহার করো যা কষ্টদায়ক নয়। যদি তারা তোমাদের আনুগত্য করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে (অত্যাচার-অনাচারের) কোনো পথ খুঁজো না।

সাবধান! নিশ্চয়ই তোমাদের স্ত্রীদের ওপর তোমাদের হক আছে, আর তোমাদের ওপর তাদের হক আছে। তোমাদের হক হলো—তারা যেন তোমাদের বিছানায় তোমাদের অপছন্দের কাউকে বসতে না দেয়, এবং তোমাদের ঘরে তোমাদের অপছন্দের কাউকে প্রবেশের অনুমতি না দেয়।
আর তাদের হক হলো—তোমরা তাদের পোশাক ও খাবারের ব্যাপারে উৎকৃষ্ট পন্থা অবলম্বন করবে।” [তিরমিজি: ৩০৮৭)

(৪) জাহিলিয়্যাতের রীতিনীতির অপনোদন:

জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: নবী ﷺ বলেছেন:
«أَلا كُلُّ شَيْءٍ مِنْ أَمْرِ الْجَاهِلِيَّـةِ تَحْتَ قَدَمَيَّ مَوْضُوعٌ، وَدِمَاءُ الْجَاهِلِيَّةِ مَوْضُوعَةٌ، وَإِنَّ أَوَّلَ دَمٍ أَضَعُ مِنْ دِمَائِنَا دَمُ ابْنِ رَبِيعَةَ بْنِ الْحَارِثِ كَانَ مُسْتَرْضِعًا فِي بَنِي سَعْدٍ فَقَتَلَتْهُ هُذَيْلٌ، وَرِبَا الْجَاهِلِيَّةِ مَوْضُوعٌ، وَأَوَّلُ رِبًا أَضَعُ رِبَانا؛ رِبا عَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَإِنَّهُ مَوْضُوعٌ كُلُّهُ»

“শোনো! জাহিলিয়্যাতের যাবতীয় বিষয় আমার দুই পায়ের নিচে পদদলিত। জাহিলিয়্যাতের রক্তপাত বাতিল ঘোষিত হলো। আর আমাদের রক্তের মধ্যে আমি সর্বপ্রথম রাবিয়া ইবনে হারিসের ছেলের রক্ত বাতিল করছি। সে বনু সা‘দ গোত্রে দুধপান করত, তাকে হুযাইল গোত্র হত্যা করেছিল। জাহিলিয়্যাতের সুদও বাতিল ঘোষিত হলো। আর আমি সর্বপ্রথম আমাদের সুদের মধ্যে আব্বাস ইবনে আবদিল মুত্তালিবের সুদ বাতিল করছি। তা সম্পূর্ণরূপে রহিত।” [মুসলিম: ১২১৮]

(৫) সুদ প্রথার বিলুপ্তি ঘোষণা:

জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে পূর্বোক্ত হাদিসে আছে, নবী ﷺ বলেছেন,
«وَرِبَا الْجَاهِلِيَّةِ مَوْضُوعٌ، وَأَوَّلُ رِبًا أَضَعُ رِبَانا؛ رِبا عَبَّاسِ بْنِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَإِنَّهُ مَوْضُوعٌ كُلُّهُ»

” জাহিলিয়্যাতের সুদও বাতিল ঘোষিত হলো। আর আমি সর্বপ্রথম আমাদের সুদের মধ্যে আব্বাস ইবনে আবদিল মুত্তালিবের সুদ বাতিল করছি। তা সম্পূর্ণরূপে রহিত।” [মুসলিম: ১২১৮]

(৬) জান্নাতে প্রবেশের পাঁচটি বৈশিষ্ট্য:

আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বিদায় হজের খুতবায় বলতে শুনেছি যে,
«اتَّقُوا اللَّهَ رَبَّكُمْ، وَصَلُّوا خَمْسَكُمْ، وَصُومُوا شَهْرَكُمْ، وَأَدُّوا زَكَاةَ أَمْوَالِكُمْ ، وَأَطِيعُوا ذَا أَمْرِكُمْ؛ تَدْخُلُوا جَنَّةَ رَبِّـكُمْ»
“তোমরা তোমাদের রবকে ভয় করো, তোমাদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করো, তোমাদের মাসের রোজা রাখো, তোমাদের সম্পদের যাকাত আদায় করো, এবং তোমাদের নেতার আনুগত্য করো— তাহলে তোমরা তোমাদের রবের জান্নাতে প্রবেশ করবে।” [তিরমিযি: ৬১৬; আহমাদ: ২২১৬১]

(৭) মুসলিম শাসকের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শন:

ইয়াহইয়া ইবনে হুসাইন বলেন: আমি আমার দাদিকে বলতে শুনেছি যে, তিনি নবী ﷺ-কে বিদায় হজ্জের খুতবায় ইরশাদ করতে শুনেছেন:
«ولَوِ اسْتُعْمِلَ عَلَيْـكُمْ عَبْـدٌ يَـقُودُكُمْ بِكِتَابِ اللَّهِ فَاسْمَعُوا لَهُ وَأَطِيعُوا»
“যদিও তোমাদের ওপর এমন কোনো গোলাম শাসক নিযুক্ত হয়ে যায়, যে তোমাদেরকে আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী পরিচালনা করে, তাহলে তোমরা তার কথা শুনবে ও আনুগত্য করবে।” [মুসলিম: ১৮৩৮]

(৮) সুন্নাহর ধারক-বাহকদের জন্য সমৃদ্ধির দোয়া:

জুবাইর ইবনে মুতইম রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ মিনার খাইফ এলাকায় দাঁড়িয়ে বললেন:
«نَضَّرَ اللَّهُ امْرَأً سَمِعَ مَقَالَتِي فَوَعَاهَا، ثُمَّ أَدَّاهَا إِلَى مَنْ لَمْ يَسْمَعْهَا، فَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ لاَ فِقْهَ لَهُ ، وَرُبَّ حَامِلِ فِقْهٍ إِلَى مَنْ هُوَ أَفْقَهُ مِنْهُ.
“আল্লাহ সেই ব্যক্তিকে উজ্জ্বল করুন যে আমার কথা শুনে তা মুখস্থ করল, তারপর তা সেই ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দিল যে শোনেনি। কেননা অনেক ফিকহের বাহক নিজে ফকিহ হয় না, আর অনেক ফিকহের বাহক এমন ব্যক্তির কাছে পৌঁছায় যে তার চেয়ে বড় ফকিহ। [ইবনে মাজাহ: ২৩১; দারেমি: ২৩৩]

(৯) তিনটি বিষয়ে মুমিনের অন্তর খিয়ানত করে না

জুবাইর ইবনে মুতইম রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
«ثَلاَثٌ لا يُغِلُّ عَلَيْهِمْ قَلْبُ الْمُؤْمِنِ: إِخْلاَصُ الْعَمَلِ، وَالنَّصِيحَةُ لِوَلِيِّ الأمْرِ، وَلُزُومُ الْجَمَاعَةِ، فَإِنَّ دَعْوَتَهُمْ تَكُونُ مِنْ وَرَائِهِ»

_”তিনটি বিষয় রয়েছে যার ব্যাপারে মুমিনের অন্তর খিয়ানত (নেফাকের মিশ্রণ হয় না) করে না:

◑ আল্লাহর জন্য আমলকে একনিষ্ঠ করা,
◑ শাসকের জন্য কল্যাণ কামনা করা,
◑ জামাতকে আঁকড়ে ধরা। কেননা তাদের দোয়া তাদের পেছন দিক থেকে বেষ্টন করে রাখে।” [ইবনে মাজাহ: ৩০৫৬]

(১০) আল্লাহর কাছে মর্যাদার মানদণ্ড তাকওয়া—গোত্র, গাত্রবর্ণ বা ভাষা নয়।

আবু নাদরা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: তাশরিকের দিনগুলোর মধ্যভাগে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর খুতবা শুনেছেন এমন একজন আমাকে অবহিত করেন যে, নবী ﷺ বলেছেন:
«يَا أَيُّها النَّاسُ: أَلا إِنَّ رَبَّكُمْ وَاحِدٌ، وَإِنَّ أَباكُمْ وَاحِدٌ، أَلا لا فَضْلَ لِعَرَبِيٍّ على عَجَمِيٍّ، وَلا لِعَجَمِيٍّ عَلَى عَرَبِيٍّ، وَلَا أَحْمَرَ عَلَى أَسْوَدَ، ولا أَسْوَدَ على أَحْمَرَ، إِلَّا بِالتَّقْوَى، أَبَلَّغْتُ؟»، قَالُوا: «بَلَّغَ رَسُولُ اللهِ ﷺ»

“হে লোকসকল! শোনো, নিশ্চয়ই তোমাদের রব একজন, আর তোমাদের পিতা একজন। শোনো, কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই কোনো আরবের অনারবের ওপর, কোনো অনারবের আরবের ওপর, লাল বর্ণের মানুষের কালো বর্ণের মানুষের ওপর, আর কালো বর্ণের মানুষের লাল বর্ণের মানুষের ওপর— শ্রেষ্ঠত্ব শুধু তাকওয়ার মাধ্যমে। আমি কি পৌঁছে দিয়েছি?” সাহাবায়ে কেরাম প্রতিউত্তর দিলেন, “রাসূলুল্লাহ ﷺ পৌঁছে দিয়েছেন।” [ইমাম আহমদ: ২৩৪৮৯]

(১১) প্রকৃত অর্থে মুমিন, মুসলিম, মুজাহিদ ও মুহাজির কে?

ফাদালা ইবনে উবাইদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত: রাসূলুল্লাহ ﷺ বিদায় হজ্জে বলেছেন:
«أَلا أُخْبِرُكُمْ بِالْمُؤْمِنِ؟ مَنْ أَمِنَهُ النَّاسُ عَلَى أَمْوَالِهِمْ وَأَنْفُسِهِمْ، وَالْمُسْلِمُ: مَنْ سَلِمَ النَّاسُ مِنْ لِسَانِهِ وَيَدِهِ، وَالْمُجَاهِدُ: مَنْ جَاهَدَ نَفْسَهُ في طَاعَةِ اللهِ، وَالمُهَاجِرُ: مَنْ هَجَرَ الخَطَايَا والذَّنُوبَ»
“আমি কি তোমাদের জানাবো মুমিন কে? মুমিন হলো সে, যার কাছে মানুষ তাদের সম্পদ ও জীবনের ব্যাপারে নিরাপদ থাকে।

মুসলিম হলো সে, যার জিহ্বা ও হাত থেকে মানুষ নিরাপদ থাকে। মুজাহিদ হলো সে, যে আল্লাহর আনুগত্যে নিজের নফসের সাথে জিহাদ করে।

আর মুহাজির হলো সে, যে গুনাহ ও পাপকে পরিত্যাগ করে।” [মুসনাদ আহমদ: ২৩৯৫৮]

(১২) জান্নাতে কেবল মুমিনই প্রবেশ করবে:

عن بِشْرِ بْنُ سُحَيْمٍ رضي الله عنه قال: خَطَبَ رَسُولَ اللهِ ﷺ أَيَّامَ التَّشْرِيقِ فَقَالَ : «لا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ إِلا مُؤْمِنٌ»

বিশর ইবনে সুহাইম রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ তাশরিকের দিনগুলোতে খুতবা দিলেন এবং বললেন:

“মুমিন ছাড়া কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না।” [ইমাম আহমদ: ১৫৪২৮]

কা‘ব ইবনে মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ তাকে এবং আউস ইবনে হাদাছানকে তাশরিকের দিনগুলোতে এ ঘোষণা দিতে পাঠালেন যে,
«أَنَّهُ لا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ إِلاَّ مُؤْمِنٌ،وَأَيَّامُ مِنًى أَيَّامُ أَكْلٍ وَشُرْبٍ.»
“নিশ্চয়ই মুমিন ছাড়া কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না। আর মিনার দিনগুলো (আয়্যামে তাশরিক) হলে পানাহারের দিন।” [মুসলিম: ১১৪২, মুসনাদে আহমদ: ১৫৭৯৩]

(১৩) কিতাব ও সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরার তাগিদ

নবী ﷺ-এর হজের বিবরণ সম্বলিত জাবির রাদিয়াল্লাহু আনহুর দীর্ঘ হাদিসে আছে, নবী ﷺ বলেছেন:
«وقَدْ تَرَكْتُ فِيكُمْ مَا لَنْ تَضِلُّوا بَعْدَهُ إِنِ اعْتَصَمْتُمْ بِهِ؛ كِتَابَ اللَّهِ، وأَنْتُمْ تُسْأَلُونَ عَنِّي فَمَا أَنْتُمْ قَائِلُونَ؟» قَالُوا: «نَشْهَدُ أَنَّكَ قَدْ بَلَّغْتَ وَأَدَّيْتَ وَنَصَحْتَ»، فَقالَ بِإِصْبَعِهِ السَّبَّابَةِ يَرْفَعُهَا إِلَى السَّمَاءِ وَيَنْكُتُهَا إِلَى النَّاسِ «اللَّهُمَّ اشْهَدِ اللَّهُمَّ اشْهَدْ» ثَلاَثَ مَرَّاتٍ.

“আমি তোমাদের মাঝে এমন জিনিস রেখে যাচ্ছি, যা আঁকড়ে ধরলে তোমরা কখনো পথভ্রষ্ট হবে না— তা হলো আল্লাহর কিতাব। আর তোমাদেরকে আমার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হবে, তখন তোমরা কী বলবে?”
তারা বলল: “আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি পৌঁছে দিয়েছেন, আদায় করেছেন এবং উপদেশ দিয়েছেন।” তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ তার তর্জনী আঙুল আসমানের দিকে তুলে লোকদের দিকে ইশারা করে বললেন: “হে আল্লাহ, সাক্ষী থেকো! হে আল্লাহ, সাক্ষী থেকো!” এ কথা তিনবার বলেন। [মুসলিম: ১২১৮]

(১৪) বিদআতের ব্যাপারে সতর্কীকরণ ও জাল হাদিস বানানোর ভয়াবহতা:

জনৈক সাহাবি বলেন,
রাসূলুল্লাহ ﷺ আমাদের মাঝে একটি কানকর্তিত সাদা রঙের উটনীর ওপর দাঁড়িয়ে বললেন:
«أَلا وإِنِّي فَرَطُكُمْ عَلَى الحَوْضِ أَنظُـرُكُمْ، وَإِنِّي مُكَاثِرٌ بِكُمُ الأُمَمَ، فَلَا تُسَوِّدُوا وَجْهِي، أَلا وَقَدْ رَأَيْتُمُونِي وَسَمِعْتُمْ مِنِّي وَسَتُسْأَلُونَ عَنِّي، فَمَنْ كَذَبَ عَلَيَّ فَلْيَتَبَوَّأْ مَقْعَدَهُ مِنَ النَّارِ، أَلَا وَإِنِّي مُسْتَنْقِذٌ رِجَالًا أَوْ نَاسًا، وَمُسْتَنْقَذٌ مِنِّي آخَرُونَ، فأَقُولُ: يَا رَبِّ أَصْحَابِي فَيُقَالُ: إِنَّكَ لا تَدْرِي مَا أَحْدَثُوا بَعْدَكَ»
“শোনো, আমি হাউজে তোমাদের আগেই উপস্থিত থাকব এবং তোমাদের জন্য অপেক্ষা করব। আমি অন্যান্য উম্মতের তুলনায় তোমাদের সংখ্যাধিক্য নিয়ে গর্ব করব। সুতরাং তোমরা আমার চেহারা কালো করো না। শোনো, তোমরা আমাকে দেখেছো, আমার কাছ থেকে শুনেছো, সুতরাং তোমাদেরকে আমার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করা হবে।

যে ব্যক্তি আমার ওপর মিথ্যা আরোপ করবে, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।
শোনো, আমি কিছু লোককে বাঁচানোর চেষ্টা করব, আবার কিছু লোককে আমার কাছ থেকে টেনে নেওয়া হবে। তখন আমি বলব: হে আমার রব, এরা আমার অনুচর! প্রতিউত্তরে বলা হবে, আপনি জানেন না তারা আপনার পরে কী নতুন কিছু উদ্ভাবন করেছে।” [ইমাম আহমদ: ২৩৪৯৭]

(১৫) পিতা-মাতার সাথে সদ্ব্যবহার ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার তাগিদ:

উসামা ইবনে শারিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বিদায় হজ্জে বলতে শুনেছি:
«أُمَّكَ وَأَبَاكَ، وَأُخْتَكَ وَأَخَاكَ، ثُمَّ أَدْنَاكَ»
“তোমার মা, তোমার বাবা, তোমার বোন, তোমার ভাই— তারপর যারা নিকটতম, তাদের হক আদায় করো।” [তাবারানি]

(১৬) জুলুম-অত্যাচার এবং শয়তানের ধোঁকা থেকে সতর্কীকরণ:

আমর ইবনে আহওয়াস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমি নবী ﷺ-কে বিদায় হজ্জে বলতে শুনেছি:
«يا أيها الناسُ ألا أيُّ يوم أَحْرَمُ؟» ثلاث مرات، قالوا: يومَ الحجِّ الأكبر، قال «فإنَّ دماءَكم وأموالَكم وأعراضَكم بينكم حرامٌ كحرمةِ يومِكم هذا، في شهرِكم هذا، في بلدِكم هذا، ألا لا يَجني جانٍ إلا على نفسِه، ولا يَجني والِدٌ على ولدِه، ولا مولودٌ على والدِه، ألا إِنَّ الشيطانَ قد أَيِسَ أن يُعبدَ في بلدِكم هذا أبدًا، ولكن سيكونُ له طاعةٌ في بعض ما تحتقرون من أعمالِكم فيرضى بها.
“হে লোকসকল! শোনো, কোন দিনটি সবচেয়ে হারাম?” তিনবার বললেন।
তারা বলল: হজে আকবরের দিন।
তিনি বললেন: “তাহলে জেনে রাখো, তোমাদের রক্ত, তোমাদের সম্পদ, তোমাদের ইজ্জত-আবরু তোমাদের পরস্পরের জন্য ঠিক ততটাই হারাম, যতটা হারাম আজকের এই দিন, এই মাস, এই শহরে।
শোনো, কোনো অপরাধী যেন নিজ ছাড়া অন্যের ওপর অপরাধ না চাপায়। পিতা তার সন্তানের অপরাধে দায়ী হয় না, সন্তানও তার পিতার অপরাধে দায়ী হয় না।
শোনো, তোমাদের এই শহরে কখনো শয়তানের ইবাদত করা হবে না মর্মে নিশ্চিতভাবে শয়তান নিরাশ হয়ে গেছে। কিন্তু তোমরা যেসব কাজকে তুচ্ছ মনে করো, সেসবে তার কিছু আনুগত্যের মিশ্রণ থাকবে এবং এতেই সে সন্তুষ্ট হবে।“
[তিরমিজি: ২১৫৯, ইবনে মাজাহ: ৩০৫৫]

(১৭) মিরাস, ওসিয়ত, অন্যকে পিতা বলা বা নিজের পিতাকে স্বীকার না করা, পিতৃত্বের সম্পর্ক এবং লেনদেন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধান:

আবু উমামা আল-বাহিলি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বিদায় হজ্জের বছরে তাঁর খুতবায় বলতে শুনেছি:

“إِنَّ اللَّهَ -تَبَارَكَ وَتَعَالَى- قَدْ أَعْطَى لِكُلِّ ذِي حَقٍّ حَقَّهُ، فَلَا وَصِيَّةَ لِوَارِثٍ، الْوَلَدُ لِلْفِرَاشِ، وَلِلْعَاهِرِ الْحَجَرُ، وَحِسَابُهُمْ عَلَى اللَّهِ، وَمَنِ ادَّعَى إِلَى غَيْرِ أَبِيهِ، أَوِ انْتَمَى إِلَى غَيْرِ مَوَالِيهِ ؛ فَعَلَيْهِ لَعْنَةُ اللَّهِ التَّابِعَةُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ، لَا تُنْفِقُ امْرَأَةٌ مِنْ بَيْتِ زَوْجِهَا إِلَّا بِإِذْنِ زَوْجِهَا “. قِيلَ : يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَلَا الطَّعَامَ ؟ قَالَ : ” ذَلِكَ أَفْضَلُ أَمْوَالِنَا “. ثُمَّ قَالَ : ” الْعَارِيَةُ مُؤَدَّاةٌ، وَالْمِنْحَةُ مَرْدُودَةٌ، وَالدَّيْنُ مَقْضِيٌّ، وَالزَّعِيمُ غَارِمٌ “. رواه الترمذي وابن ماجه

“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা‘আলা প্রত্যেক হকদারকে তার হক দিয়ে দিয়েছেন। সুতরাং ওয়ারিসের জন্য ওসিয়ত (বৈধ) নেই।

সন্তান তার, যার শয্যায় সে জন্ম নিয়েছে। পক্ষান্তরে ব্যভিচারীর জন্য রয়েছে পাথর। আর তাদের হিসাব আল্লাহর কাছে।

যে ব্যক্তি নিজ পিতা ছাড়া অন্যকে পিতা বলে দাবি করল, অথবা নিজ মাওলার পরিবর্তে অন্যকে নিজের মাওলা বলে সম্পর্ক স্থাপন করল, তার ওপর কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহর লানত।

কোনো স্ত্রী তার স্বামীর অনুমতি ছাড়া তার ঘর থেকে কিছু খরচ করবে না।”

জিজ্ঞেস করা হলো: হে আল্লাহর রাসূল, খাবারও কি না?
তিনি বললেন: “সেটাই তো আমাদের সর্বোত্তম সম্পদ।”

তারপর তিনি বললেন: “ধারকৃত বস্তু ফেরত দিতে হবে, দুধপানের জন্য প্রদত্ত পশু ফেরত দিতে হবে, ঋণ পরিশোধ করতে হবে, আর জামিনদারকে দায় বহন করতে হবে।”
[তিরমিযি: ২১২০, মুসনাদে আহমদ: ২২২৯৫]

(১৮) দুনিয়ার সংক্ষিপ্ততা, দ্রুত বিলীন হওয়া, এতে প্রতারিত না হওয়া এবং আখিরাতের প্রস্তুতি:

আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা আরাফাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সূর্যের দিকে তাকালেন, অস্তগামী সূর্যটি ঢালের মতো ঝুলে পড়েছিল। তিনি তীব্রভাবে কাঁদতে লাগলেন।
এক লোক জিজ্ঞেস করল হে আবু আবদির রহমান! আমি অনেকবার আপনার সাথে দাঁড়িয়েছি, আপনি এমন করেন কেন?
ইবনে উমর বললেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর কথা স্মরণ হলো, তিনি আমার এই জায়গায় দাঁড়িয়ে বলেছিলেন:
«أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّهُ لَمْ يَبْقَ مِنْ دُنْياكُمْ فِيما مَضَى مِنْهَا إِلا كَمَا بَقِيَ مِنْ يَوْمِكُمْ هَذَا فِيمَا مَضَى مِنْهُ»

“লোকসকল! দুনিয়ার যা অতিবাহিত হয়েছে, তার তুলনায় যা অবশিষ্ট আছে তা তোমাদের আজকের দিনের অতিবাহিত অংশের তুলনায় অবশিষ্টাংশের মতোই।” [মুসনাদ আহমদ:৬১৭৩]

যায়দ ইবনে সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
«من كان همُّه الآخرة الآخِرَةَ؛ جَمَعَ اللَّهُ شَمْلَهُ، وَجَعَلَ غِنَاهُ فِي قَلْبِهِ، وَأَتَتْهُ الدُّنْيَا وَهِيَ رَاغِمَةٌ، وَمَنْ كَانَتْ نِيَّتُهُ الدُّنْيَا؛ فَرَّقَ اللَّهُ عَلَيْهِ ضَيْعَتَهُ، وَجَعَلَ فَقْرَهُ بَيْنَ عَيْنَيْهِ، وَلَمْ يَأْتِهِ مِنَ الدُّنْيَا إِلاَّ مَا كُتِبَ لَهُ» رواه الإمام أحمد

“যার উদ্দেশ্য হবে আখিরাত, আল্লাহ তার কাজগুলো সমন্বিত করে দেবেন, তার অন্তরে অমুখাপেক্ষিতা দান করবেন, আর দুনিয়া লাঞ্চিত হয়ে তার কাছে ছুটে আসবে। আর যার নিয়ত হবে দুনিয়া, আল্লাহ তার কাজগুলো ছিন্নভিন্ন করে দেবেন, তার দুই চোখের সামনে দারিদ্র্য রেখে দেবেন, আর দুনিয়া থেকে সে শুধু ততটুকুই পাবে যতটুকু তার জন্য লিখিত আছে।” [ইমাম আহমদ: ২১৫৯০]

(১৯) ধীরস্থিরতা ও শান্তির তাগিদ:

ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন: আমি আরাফার দিন নবী ﷺ-এর সাথে ফিরছিলাম। তিনি তার পেছন থেকে কঠিন ধমক, প্রহার ও উটের আওয়াজ শুনলেন। রাসুলুল্লাহ ﷺ চাবুক দিয়ে তাদের দিকে ইশারা করে বললেন:
«أَيُّهَا النَّاسُ عَلَيْكُمْ بِالسَّكِينَةِ، فَإِنَّ الْبِرَّ لَيْسَ بِالْإِيضَاعِ»

“হে লোকসকল! তোমরা ধীরস্থিরতা অবলম্বন করো। কেননা দ্রুত ছুটে যাওয়ার মধ্যে কোনো সওয়াবের কাজ নয়।” [বুখারি: ১৬৭১]

(২০) দাজ্জালের ফিতনা সম্পর্কে হুঁশিয়ারি:

আব্দুল্লাহ ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, আমরা বিদায় হজ্জ নিয়ে আলোচনা করছিলাম। নবী ﷺ আমাদের মাঝে ছিলেন, কিন্তু আমরা জানতাম না বিদায় হজ্জ কী। রাসুলুল্লাহ ﷺ আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তন করলেন। তারপর মাসিহ দাজ্জালের কথা উল্লেখ করলেন এবং তার ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করলেন। বললেন:
«ما بَعَثَ اللهُ مِنْ نَبِيٍّ إِلَّا أَنْذَرَ أُمَّتَهُ؛ أَنذَرَهُ نُوحٌ وَالنَّبِيُّونَ مِنْ بَعْدِهِ، وَإِنَّهُ يَخْرُجُ فِيكُمْ، فَمَا خَفِيَ عَلَيْكُمْ مِنْ شَأْنِهِ فَلَيْسَ يَخْفَى عَلَيْكُمْ أَنَّ رَبَّكُمْ لَيْسَ عَلَى مَا يَخْفَى عَلَيْكُمْ -ثَلاثًا- إِنَّ رَبَّكُمْ لَيْسَ بِأَعْوَر، وَإِنَّهُ أَعْوَرُ عَيْنِ الْيُمْنَى كأَنَّ عَيْنَهُ عِنَـبَـةٌ طافِـيَـةٌ»
“আল্লাহ এমন কোনো নবী পাঠাননি যিনি তার উম্মতকে দাজ্জাল সম্পর্কে সতর্ক করেননি। নূহ এবং তার পরবর্তী নবীরাও এর ব্যাপারে সতর্ক করেছেন। আর নিশ্চয়ই সে তোমাদের মাঝেই বের হবে।

তার ব্যাপারে যদি তোমাদের কাছে কিছু অস্পষ্টতা থাকে, তবে এ কথা যেন স্পষ্ট থাকে যে, তোমাদের রব এমন নন। তিনবার বললেন: নিশ্চয়ই তোমাদের রব কানা নন।

আর দাজ্জাল একচোখা, তার ডান চোখ কানা। তার চোখটি যেন ভাসমান আঙুরের মতো।” [বুখারি:৪৪০৫ ]

(২১) কবিরা গুনাহ থেকে সতর্কীকরণ:

সালামা ইবনে কায়স আল-আশজায়ি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: রাসূলুল্লাহ ﷺ বিদায় হজে বলেছেন:

«أَلَا إِنَّمَا هُنَّ أَرْبَعٌ: أَنْ لا تُشْرِكُوا بِاللهِ شَيْئًا، وَلَا تَقْتُلُوا النَّفْسَ الَّتِي حَرَّمَ اللهُ إِلَّا بِالْحَقِّ، وَلَا تَزْنُوا، وَلَا تَسْرِقُوا»

“শোনো, এগুলো (কবিরা গোনাহ) চারটি মাত্র: তোমরা আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করবে না, আল্লাহ যে প্রাণকে হারাম করেছেন তা ন্যায়সঙ্গত কারণ ছাড়া হত্যা করবে না, ব্যভিচার করবে না এবং চুরি করবে না।” [ইমাম আহমদ: ১৮৯৮৯]

(২২) দ্বীনি ভ্রাতৃত্ব বন্ধন অটুট রাখার গুরুত্বারোপ:

আমর ইবনে আহওয়াস রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, বিদায় হজ্জে তিনি রাসূলুল্লাহ ﷺ কে বলতে শুনেছেন যে,
«ألا إنَّ المسلمَ أخو المسلم؛ فليس يحلُّ لمسلمٍ مِنْ أخيه شيءٌ إلا ما أحلَّ من نفسِه»

“শোনো, নিশ্চয়ই মুসলিম মুসলিমের ভাই। সুতরাং কোনো মুসলিমের জন্য তার ভাইয়ের কোনো কিছু হালাল নয়, তবে যদি সে স্বেচ্ছায় তা দেয়।” [তিরমিযি: ৩০৮৭]

(২৩) রাসূলুল্লাহ ﷺ শেষ নবী:

আবু কাবিলা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ﷺ বিদায় হজ্জে লোকদের মাঝে দাঁড়িয়ে বললেন:
“لا نبي بعدي، ولا أمة بعدكم، فاعبدوا ربكم، وأقيموا خمسكم، وصوموا شهركم، وأطيعوا ولاة أمركم، ثم ادخلوا جنة ربكم”

“আমার পরে কোনো নবী নেই, আর তোমাদের পরে কোনো উম্মত নেই। সুতরাং তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত করো, পাঁচ ওয়াক্ত সালাত কায়েম করো, তোমাদের (রমজান) মাসে সিয়াম পালন করো, তোমাদের শাসকদের আনুগত্য করো, তাহলে তোমরা তোমাদের রবের জান্নাতে প্রবেশ করবে।” [তাবারানি, আল-মু‘জামুল কাবির]

(২৪) প্রতিবেশীর ব্যাপারে অসিয়ত

আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বিদায় হজ্জে তার জাদ‘আ নামক উটনীর ওপর থাকা অবস্থায় বলতে শুনেছি:
((أوصيكم بالجار حتى أَكْثَرَ، فقلت: إنه لَيورثه))

“আমি তোমাদেরকে প্রতিবেশীর ব্যাপারে অসিয়ত করছি, এত বেশি বলেছেন যে আমার (বর্ণনাকারী আবু উমামা) মনে হলো, হয়তো প্রতিবেশীকে ওয়ারিস বানিয়ে দেবেন।” [তাবারানি]

২৫) আল্লাহর নামে কসম খাওয়া থেকে বিরত থাকা:

আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি নবী ﷺ-কে শুনেছেন, তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ জাদ‘আ নামক উটনীর ওপর আরোহিত ছিলেন আর ফযল ইবনে আব্বাস ছিলেন তার পিছনে।
“لا تألوا على الله ; فإنه من تألى على الله أكذبه الله”

“তোমরা আল্লাহর ওপর কসম করে সীমালঙ্ঘন করো না। কেননা যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর কসম করে সীমালঙ্ঘন করে, আল্লাহ তাকে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করেন। [তাবারানি— আল-মু‘জামুল কাবির]

পাঠকের ভালোবাসাই রাবতার শক্তি। এক কাপ চায়ের দামে আমাদের পাশে থাকতে পারেন।

বিস্তারিত
লেখক

মাওলানা কুতুবউদ্দিন

সব লেখা দেখুন

লেখাটি শেয়ার করুন

১টি মন্তব্য

  1. ল
    লাবীব হুমায়দী

    মাশাআল্লাহ

আপনার মন্তব্য লিখুন


Review Your Cart (0)

Your cart is currently empty.